ফ্ল্যাট স্যান্ডেলও ক্ষতি করে পায়ের!

হিল জুতা পরার কারণে পায়ের অনেক ক্ষতি হয় এ কথা আমরা অনেকেই জানি। হিল জুতা পড়লে পায়ের হাড়ে ব্যথা, হাঁটুর জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া-সহ আরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এ কারণেই অনেকে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বা জুতা পরেন। কিন্তু ফ্ল্যাট জুতা পরাও পায়ের জন্য ভাল নয়।

বেশির ভাগ সময় ফ্ল্যাট স্যান্ডেল (চটি) বা জুতা পরলেও রয়েছে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। সব সময় ফ্ল্যাট জুতা বা চটি পরার অজানা কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা বা ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

* ফ্ল্যাট জুতা বা স্যান্ডেল পরলে পায়ের পাতার উপরই চাপ পড়ে বেশি। এতে পায়ের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

* ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরলে পা মাটি, পানি বা রাস্তার খুব কাছাকাছি থাকে। এতে খুব সহজেই পায়ের নখ এবং আঙুলে ছত্রাকের (ফাঙ্গাস) সংক্রমণ হতে পারে। এ থেকে খুব সহজেই পায়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। তাই ফ্ল্যাট জুতা বা স্যান্ডেল পড়ার ক্ষেত্রে, অন্তত বর্ষাকালে দ্বিতীয়বার ভাবুন।

* দীর্ঘদিন ধরে পাতলা সোলের স্যান্ডেল বা জুত পরার ফলে পায়ের পাতার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। ফ্ল্যাট জুতা পরার ফলে ‘হ্যামার টো’ নামের সমস্যা অর্থাৎ পায়ের পাতা বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* ফ্ল্যাট জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহারে পায়ের পাতা ছড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। আপনি যখন ফ্ল্যাট জুতা পড়েন তখন পা ফেলার সময় পুরো পায়ের পাতা সমানভাবে পড়ে এবং ব্যাল্যান্স ধরে রাখার জন্য পায়ের পাতা যতোটা সম্ভব ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ফ্ল্যাট জুতা ব্যবহারের কারণে পায়ের আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়।

* সারাদিন হাঁটাচলা করতে হলে অনেকেই ফ্ল্যাট জুতা বা স্যান্ডেল বেছে নেন। কিন্তু আমরা যখন সারাদিন হেঁটে বা দাঁড়িয়ে কাজ করে থাকি তখন হাঁটাহাঁটি করার ফলে আমাদের পায়ের পাতা বা পায়ের তলার সঙ্গে এই ফ্ল্যাট জুতা বা স্যান্ডেলের ঘর্ষণ বেশি হয় এবং পায়ের পাতার তালুতে জ্বালা ভাব সৃষ্টি হয়। পায়ের তলায় ফোসকার সৃষ্টি হয় যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক।

তাই একেবারে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বা জুতা না পরে অন্তত এক থেকে দেড় ইঞ্চি উঁচু জুতা বা স্যান্ডেল পরার চেষ্টা করুন। আর দীর্ঘক্ষণ ফ্ল্যাট না পড়ে জুতা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরার অভ্যাস করুন। এতে আপনার পায়ের আকৃতি ঠিক থাকবে এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকেও বাঁচবে পা।

শরীরে ১১ লক্ষণে সাবধান

শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়। কথাটা বলা যত সহজ, শরীর ঠিক রাখা আসলে অতটা সহজ নয়। তা পুরোটাই নির্ভর করে যত্নআত্তি আর সচেতনতার ওপর। তাই এই মহাশয়ের প্রতি যত্নবান থাকাটা খুব দরকার। শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এ আর এমন কি—ভেবে অনেক সময় আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিই না। তবে কিছু উপসর্গ বা শরীরে কিছু বদলের পরিণতি ভয়ংকর হতে পারে। তাই ১১ লক্ষণে আগে থেকেই সাবধান।

১. বুকে ব্যথা: বিশ্বাস করুন আর না–ই করুন, বুকে ব্যথা হওয়ার ৩০ কারণ থাকতে পারে। বুকে ব্যথা হলে সাধারণত আমরা কারণটা ভাবি অ্যাসিডিটি। এটা কিন্তু হৃদ্‌রোগও হতে পারে। বুকে ব্যথা হলে তাই অবহেলা করবেন না। নইলে বিপদ আসতে পারে। শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, শীতকালেও ঘাম, নাড়ির অনিয়মিত বা দ্রুত স্পন্দন থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

২. ক্লান্তি: দিনের যেকোনো সময় যেকেউ ক্লান্তিবোধ করতে পারেন। কিন্তু প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়লে সতর্কতা প্রয়োজন। খুব বেশি কাজের চাপ না পড়লেও যদি আপনি প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। অপুষ্টি বা থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে।

৩. মাথাব্যথা: মাথাব্যথার মাধ্যমে শরীর আপনাকে কিছু একটা জানাতে চায়। অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে সাময়িক উপশম পেতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মাথাব্যথার কারণটা আরও গভীর হতে পারে। প্রচুর পানি পান ও মুক্ত পরিবেশে থাকার পরও সমস্যার সমাধান না হলে ভাবতে হবে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। পুষ্টিহীনতা, ঘুমের স্বল্পতা অথবা মানসিক চাপ থেকেও কিন্তু এমন ব্যথা হতে পারে।

৪. পেটের গোলমাল: পাকস্থলী প্রতিদিন পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি। প্রত্যেক মানুষের শরীরের আলাদা ধরন রয়েছে। তাই অভ্যাসগুলোও আলাদা। তবে যদি পেটের গোলমাল খুব বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসা প্রয়োজন। দিনে কয়েকবার যেতে হলে পেটের বর্জ্যে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

৫. ওজন কমে যাওয়া: হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া মারাত্মক একটি লক্ষণ। এ রকম হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। ডায়বেটিস, ক্যানসার, ভাইরাসের সংক্রমণ, পেটের অসুখ, হতাশাসহ নানা অসুখের কারণে ওজন কমে যেতে পারে। যত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন তত দ্রুত উপকার পাবেন।

৬. তিল ও আঁচিল: শরীরে হঠাৎ কোনো দাগ দেখতে পেলে সাবধান। শরীরে হঠাৎ করে তিল বা আঁচিলের সংখ্যা বেড়ে গেলেও নজরদারি দরকার। তিল বা আঁচিল ক্ষতিকর নয়। কিন্তু তিল বা আঁচিলের বদল থেকে বড় সমস্যা হতে পারে।

৭. চুল পাতলা হয়ে যাওয়া: নারীদের ক্ষেত্রে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়াটা ভয়ংকর। যদি খুব বেশি চুল পড়ে যেতে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। পুষ্টিহীনতা বা কোনো অসুখ থেকে এমনটা হতে পারে।

৮. নাক ডাকা: হৃদ্‌রোগ, ক্লান্তি নাক ডাকার কারণ হতে পারে। শরীর যথেষ্ট অক্সিজেন না পেলেও এমনটা হতে পারে। ওজন কমালে নাক ডাকা কমতে পারে। সমস্যাটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ভালো।

৯. ত্বকের সমস্যা: ত্বক শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ত্বকে র‌্যাশ, একজিমা, সংক্রমণও শরীরের একধরনের বার্তা। শরীর এ রকম পরিস্থিতিতে কোনো গোলযোগের সংকেত দেয়। পুষ্টির অভাব, অ্যালার্জি থেকেও এমনটা হতে পারে।

১০. পিপাসা: দৈনিক দুই লিটার পানি পান করা শরীরের জন্য ভালো। এর চেয়ে বেশি পানি পান করলে বা অনিয়মিত পানি পান করলে জটিল সমস্যা হতে পারে। বারবার পানি পিপাসা হৃদ্‌রোগ বা কিডনিসংক্রান্ত জটিলতার কারণ হতে পারে। টাইপ ২ ডায়বেটিসের লক্ষণও হতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করাটা জরুরি।

১১. ঠোঁট ফাটা: আপনার কি প্রায়ই ঠোঁট ফেটে যায়? কখনো ভেবেছেন এর কারণ কী হতে পারে? ভিটামিন বি–এর অভাবে এমনটা হতে পারে। বি ভিটামিনের অভাব থাকলে রক্তশূন্যতা হতে পারে। পপকর্ন, লবণ, অলিভ ওয়েল, ঝাল লাল মরিচ খেলে বি ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

সংসার সামলে ৩৯তম বিসিএসে দেশসেরা ডা. নীলিমা!

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার সময় বিয়ে হয় নীলিমা ইয়াসমিনের। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের চাপ। সেই চাপকে তিনি উতরে গিয়ে ফলাফলে হয়েছেন সবার সেরা। আবার সংসারে যখন সন্তানের বয়স চার মাস মাত্র, সে সময় কোলের শিশুকে সামলে দিয়েছেন বিসিএস পরীক্ষা। সেখানেও হয়েছেন প্রথম। যুক্তরাজ্য থেকেও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। তাঁর এই ফল এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। সংসার, সন্তান—সবকিছু সামলে তিনি পড়াশোনা করেই এসব সফলতা অর্জন করেছেন। ফলে, সেরা হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না নীলিমার।

চিকিৎসকদের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে দেশসেরা হন নীলিমা ইয়াসমিন। এই বিসিএসে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নেওয়া হয়। নীলিমা এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।

এত কিছু সামলে কীভাবে বারবার সেরা হন, সেই কথা জানতে হাজির হই নীলিমা ইয়াসমিনের সামনে। নীলিমা বলেন, ‘মেডিকেলে যখন তৃতীয় বর্ষে পড়ি, তখন বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের চাপ তো আছেই; তবে নিজের পড়াশোনাটা করে গেছি ঠিকমতো। আর তার ফলও পেয়েছি হাতেনাতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছিলাম সেরা ফলের জন্য।’

নীলিমার জীবনে প্রথম বিসিএস পরীক্ষা ছিল ৩৮তম। এই পরীক্ষার তিন দিন পর এফসিপিএস পরীক্ষা। সন্তানের বয়সও চার মাস। সব মিলে দারুণ এক চাপে ছিলেন তিনি। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করে লিখিত পরীক্ষা দেন। সেখানেও পাস করেছেন তিনি। এফসিপিএসের মতো কঠিন পরীক্ষাতেও পেয়েছেন সফলতা।

নীলিমা জানান, ৩৮তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। যখন এফসিপিএসের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দুটি পরীক্ষাই তখন পাশাপাশি। দুটিতেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। যখন ৩৯তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো, তখন দেখলেন, তাঁর ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার আগেই ৩৯তমর পরীক্ষা। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ নেওয়া, পড়াশোনা, সন্তানকে সামলানো—সব মিলিয়ে তাঁর অবস্থা খুব ভালো ছিল না। তাঁরপরও ইচ্ছাশক্তির কাছে দমে যায় সব প্রতিবন্ধকতা। নীলিমা বলেন, ‘৩৯তম বিসিএসের জন্য বেশি প্রস্তুতি নিতে পারিনি। ৩৮তমর জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওই প্রস্তুতি দিয়েই মূলত ৩৯তম বিসিএসে প্রথম হয়েছি।’

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার সময় বিয়ে হয় নীলিমা ইয়াসমিনের। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের চাপ। সেই চাপকে তিনি উতরে গিয়ে ফলাফলে হয়েছেন সবার সেরা। আবার সংসারে যখন সন্তানের বয়স চার মাস মাত্র, সে সময় কোলের শিশুকে সামলে দিয়েছেন বিসিএস পরীক্ষা। সেখানেও হয়েছেন প্রথম। যুক্তরাজ্য থেকেও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। তাঁর এই ফল এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। সংসার, সন্তান—সবকিছু সামলে তিনি পড়াশোনা করেই এসব সফলতা অর্জন করেছেন। ফলে, সেরা হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না নীলিমার।

চিকিৎসকদের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে দেশসেরা হন নীলিমা ইয়াসমিন। এই বিসিএসে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নেওয়া হয়। নীলিমা এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।

এত কিছু সামলে কীভাবে বারবার সেরা হন, সেই কথা জানতে হাজির হই নীলিমা ইয়াসমিনের সামনে। নীলিমা বলেন, ‘মেডিকেলে যখন তৃতীয় বর্ষে পড়ি, তখন বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের চাপ তো আছেই; তবে নিজের পড়াশোনাটা করে গেছি ঠিকমতো। আর তার ফলও পেয়েছি হাতেনাতে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছিলাম সেরা ফলের জন্য।’

নীলিমার পড়াশোনায় ভালো করার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ঢাকার মুন্সি আব্দুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি আর ২০১০ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। দুটিতেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। এরপর ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে।

নীলিমার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। বাবা মোহাম্মাদ হানিফ ছিলেন আমেরিকাপ্রবাসী আর মা গৃহিণী। মা-বাবা সব সময় তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। বাবা ২০১৩ সালে মারা যান। নীলিমার সন্তানের বয়স এখন দুই বছর।

নীলিমা ভালো চিকিৎসক হতে চান। চিকিৎসকদের সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব বদলে মানুষ আর চিকিৎসকের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চান তিনি।

মেডিকেলে ভালো ফলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে নিজের প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল। ছেলে নাহিয়ান হকের বয়স যখন এক বছর, তখন ৩৯তম বিসিএসে অংশ নেন তিনি। পরীক্ষা ভালোই দিয়েছিলেন। বললেন, ‘যখন ৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম, তখন মিলিয়ে দেখলাম যে ১৬৪/১৬৫ পাব। মৌখিক পরীক্ষাও দিলাম বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। নিজের ফলাফল দেখে কিছুটা অবাক হলেও আবেগে ভাসিনি। ভালো পরীক্ষা দিয়েই তো এ ফল পেয়েছি।’

সম্প্রতি নীলিমার সফলতার পলকে যুক্ত হয়েছে বিশেষ অর্জন। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের রয়েল কলেজ থেকে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে প্রসূতিবিদ্যা (এমআরসিওজি) প্রথম পার্ট শেষ করেছেন। এখন দ্বিতীয় পার্টের জন্য পড়ছেন। এটি পাস করলে সেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত সেবা দিতে পারবেন।

নীলিমার স্বামী জিহাদুল হকও চিকিৎসক হিসেব কর্মরত। নীলিমা বললেন, ‘স্বামী চিকিৎসক হওয়ায় তিনি সবকিছুতে সহায়তা করেছেন। বিসিএসে আমার ভালো ফলের কৃতিত্ব তাঁরও।’

বিসিএসের প্রস্তুতি: গাণিতিক যুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। এ সময় নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন ৩৭তম বিসিএসে প্রশাসনে প্রথম স্থান অধিকারী তকী ফয়সাল। এবারের বিষয় গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা—বিসিএস পরীক্ষার্থীদের অন্যতম ভীতি ও দুশ্চিন্তার বিষয়। কিন্তু এতে পিছপা হলে চলবে না; বরং ভয়কে জয় করে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। আর পরীক্ষার হলে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রেখে ঠান্ডা মাথায় এ অংশের উত্তর করতে হবে। তাহলে আশা করা যায় সাফল্য আসবেই।

গাণিতিক যুক্তি বিষয়ে প্রস্তুতির শুরুতেই সিলেবাস ও বিগত বছরের প্রশ্নাবলি বিশ্লেষণ করতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে গাণিতিক যুক্তি অংশটি পাঁচটি ভাগে ভাগ করা আছে এবং ১৫ নম্বরের মানবণ্টনও সেভাবেই সন্নিবেশিত হয়েছে। তাই বিক্ষিপ্তভাবে প্রস্তুতি না নিয়ে সিলেবাস ধরে বিষয় অনুসারে নিজের দক্ষতা ও দুর্বলতার দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সে অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে পরিকল্পনা সাজিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অনুশীলন করে যেতে হবে। সিলেবাসের প্রথম তিন ভাগের বীজগণিত ও পাটিগণিত এবং চতুর্থ ভাগের জ্যামিতি মূলত মাধ্যমিক লেভেলের গণিতের সিলেবাস থেকে সাজানো। আর পঞ্চম ভাগ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সমন্বয়। তাই গণিতচর্চার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পর্যায়ের বোর্ড বইগুলো ধরেই এগোতে হবে। এরপর বাজারের যেকোনো গাইড থেকে বিষয় অনুযায়ী নিয়মিত এমসিকিউ চর্চা করে যেতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বিগত বিসিএসের প্রশ্ন, পিএসসির নন-ক্যাডারের প্রশ্ন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলোও বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখতে হবে গণিতচর্চার জন্য। সমাধান দেখে মুখস্থ নয়; বরং নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। গণিতের ক্ষেত্রে যে যত ঠেকে ঠেকে শিখবে, তার দক্ষতা তত বাড়বে। আর বেশি বেশি অনুশীলন করে দক্ষতা বাড়াতে পারলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার স্বল্পসময়ের মধ্যে সঠিক উত্তর বের করা সহজ হয়ে যাবে। আটকে গেলে হাল ছেড়ে দেওয়া চলবে না; ধৈর্য ধরে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে।

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা অংশের ক্যালকুলেশনে অনেক সময়ই অসতর্কতাবশত ভুল হয়ে যায়; আর এতে অনর্থক নেগেটিভ মার্ক গুনতে হয়। যেহেতু প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায় না, তাই হাতে ক্যালকুলেশনের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং বাসায় বেশি বেশি অভ্যাস করতে হবে।

এবার আসি মানসিক দক্ষতা অংশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রথমে বিগত বছরগুলোর প্রিলিমিনারি ও রিটেনের সব প্রশ্ন বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। এরপর সিলেবাসের ছয়টি অংশ থেকে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজারের যেকোনো গাইড, মানসিক দক্ষতাবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও বই ফলো করা যেতে পারে। সিলেবাসের ‘ভাষাগত যৌক্তিক বিচার’ ও ‘সমস্যা সমাধান’ অংশ দুটি প্রশ্ন ঠিকভাবে পড়ে ও বুঝে অনুশীলন করতে হবে; ‘বানান ও ভাষা’ অংশটি বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট; ‘যান্ত্রিক দক্ষতা’ অংশে মূলত সঠিক অবজারভেশন পাওয়ার টেস্ট করা হয়; আর ‘স্থানাঙ্ক সম্পর্ক’ ও ‘সংখ্যাগত ক্ষমতা’ অংশে হিসেবের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

সাধারণ বিজ্ঞান অংশের ১৫ নম্বরের মধ্যে ভৌত, জীব ও আধুনিক বিজ্ঞানের প্রত্যেক ভাগ থেকে সাধারণত ০৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। এ অংশের প্রশ্নগুলো মাঝেমধ্যে পরীক্ষায় কনফিউশন তৈরি করে। তাই অবশ্যই এ অংশ ভালোমতো বুঝে বুঝে পড়তে হবে ও সঠিক উত্তর করতে হবে। এ বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জনে নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই এবং বাজারের কোনো একটা গাইড থেকে বিষয় অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে অবশ্যই বিগত বিসিএস, পিএসসির নন-ক্যাডার, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্নাবলি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশের মানবণ্টনে কম্পিউটারের ওপর ১০ নম্বর এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে ০৫ নম্বর বরাদ্দ আছে। এ ক্ষেত্রেও সিলেবাস ও বিগত বছরের প্রশ্নাবলি বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত বিসিএসের প্রশ্ন, পিএসসির নন-ক্যাডারের প্রশ্ন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটারের সাংগঠনিক ও ব্যবহারিক বিষয়ের ওপর ভালো জ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয়ের ওপর ভালো দখল থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের টেক্সট বুক এবং বাজারের যেকোনো গাইড থেকে টপিক্স অনুসারে পড়া যেতে পারে। আর সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে পত্রিকা থেকে নোট রাখা যেতে পারে। আসলে কৌশলী হয়ে প্রস্তুতি নিলে যেকোনো কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়।

বিসিএসের প্রস্তুতিঃ গণিত ও মানসিক দক্ষতায় ভালো করতে হলে-

ক) সাধারণ গণিত বিসিএস পরীক্ষার অন্যতম অংশ। প্রিলিমিনারিতে ১৫ নম্বর বরাদ্দ আছে। যার তিনটি অংশ; পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি।

খ) বাস্তব সংখ্যা অংশে মূলদ, অমূলদ, মৌলিক, সহ মৌলিক, ঋণাত্মক সংখ্যা চেনার উপায় ভালো করে শিখবেন। তা ছাড়া ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত কতগুলো মৌলিক সংখ্যা আছে জেনে নেবেন। ২৫টি আছে।

গ) গণিত হচ্ছে অনেকটা মইয়ের মতো। ধাপ বাদ দিলে ওপরে উঠতে অসুবিধা। আর বেশি করে ধাপ এড়িয়ে গেলে ওঠাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ধাপে ধাপে গণিতে ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। বর্গের সূত্র না জেনে মান নির্ণয় করা যাবে না।

ঘ) অঙ্কগুলো করার সময় আপনার অনেক ভুল হয় বা হবে। সে ভুলগুলো নিয়ে একটু ভাবুন। প্রতিটা ভুল বিশ্লেষণ করুন ও বোঝার চেষ্টা করুন। আর যদি ধরতে পারেন তবে অঙ্ক শিখে গেছেন। সময় একটু লাগলেও যা শিখলেন তা মাথায় থাকবে।

ঙ) গণিতের ভিত্তি ধরতে হবে বোর্ডের গণিত বইগুলোকে। বিশেষ করে সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বইগুলো। গণিত চর্চা শুরু করতে হবে নিচের শ্রেণি থেকে ওপরের শ্রেণি পর্যন্ত। যেমন প্রথমে সপ্তম, পরে অষ্টম ও তারপর নবম-দশম শ্রেণি। বোর্ড বইগুলো সমাধান করার সময় কঠিন অঙ্কগুলো মার্ক করে রাখবেন। পরেরবার করার সময় শুধু ওই মার্ক করাগুলো করলেই হবে।

চ) কিছু অধ্যায় তুলনামূলকভাবে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। যেমন সুদকষা, শতকরা, লাভ ও ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত, বর্গমূল, উৎপাদক, সূচক, ধারা, সেট ইত্যাদি।

ছ) পরিমাপসংক্রান্ত সমস্যা সহজে সমাধান করতে গণনা পদ্ধতি ও এককসমূহ জানতে হবে। যেমন ১ বিঘায় কত কাঠা, ১ কেজিতে কত পাউন্ড—এসব আরকি।

জ) গণিতের বিভিন্ন অংশের সূত্রগুলো ভালো করে পড়ে নেবেন। প্রয়োজনে একটা নোট তৈরি করে নেবেন যেখানে সব সূত্র এক জায়গায় থাকবে। অনেক সময় সূত্র থেকেও দু–একটি প্রশ্নের উত্তর করা যায়। তা ছাড়া সূত্র বা নিয়ম ছাড়া অঙ্ক মেলাতেও পারবেন না।

ঝ) গণিতের যে অংশটি ভালো করে পারেন, তা যেন আয়ত্তে থাকে খেয়াল রাখবেন। অন্য অংশটি কম পারলেও যেন তা কাভার করা যায়।

ঞ) অনুশীলন ব্যতীত গণিতে ভালো করা যায় না। তাই প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় গণিত অনুশীলন করার জন্য বরাদ্দ রাখুন। আর বিগত বছরের গণিত প্রশ্নগুলো ভালো করে সবার আগে সমাধান করে নেবেন।

ট) কিছু গণিত শর্টকাটে করবেন। কারণ, আপনি সব সময় বিস্তারিত করার সময় পাবেন না। তবে সব আবার শর্টকাট করতে যাবেন না।

ঠ) অতি কঠিন মাত্রার গণিত বিশেষ করে জিআরই, জিম্যাট থেকে অনুশীলন করার প্রয়োজন নেই। প্রিলিমিনারিতে এত কঠিন গণিত প্রশ্ন হয় না।

ড) গণিতে বেশি দুর্বল হলে বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ স্টাডি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গণিতে দক্ষ বন্ধুকে বেছে নিন। অন্য বিষয়ের চেয়ে গণিতের গ্রুপ স্টাডি বেশি কাজে দেয়।

ঢ) যদি বিশেষ কোনো অধ্যায় যেমন সময় ও স্রোত–এর গণিত আয়ত্ত করতে না পারেন, ছেড়ে দিন। ওই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন না–ও আসতে পারে। এতে কিছুটা ঝুঁকিও থাকে।

ণ) গণিতের কোনো অংশকে সহজ মনে করে এড়িয়ে যাবেন না। সমান গুরুত্ব দেবেন। না হলে দেখা যাবে পরীক্ষার হলে গিয়ে আর মেলাতে পারছেন না।

ত) মাঝে মাঝে নিজেকে যাচাই করার জন্য কিছু অধ্যায় ধরে পরীক্ষা দেবেন। এটা আপনার করণীয় ঠিক করতে সাহায্য করবে।

থ) একটা আশার কথা হলো, গণিতের একটা সীমানা আছে। মৌলিক নিয়মগুলো ভালো করে জানলে কমনসেন্স দিয়ে অনেক ম্যাথ সমাধান করা সম্ভব।

দ) জ্যামিতি অংশটি বোর্ডের বই থেকে না পড়লেও চলবে। কারণ, প্রিলিমিনারিতে জ্যামিতির খুব গভীর থেকে প্রশ্ন হয় না বা করার সুযোগও থাকে না। তাই এই অংশের জন্য একটা গাইড অনুসরণ করলেই হবে।

ধ) কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ এবং তাদের প্রকারভেদের বিস্তারিত তাত্ত্বিক দিকগুলো ভালো করে পড়বেন। সঙ্গে তার ক্ষেত্রফল বা আয়তন নির্ণয়ের সূত্রও।

ন) মানসিক দক্ষতা অংশে ১৫টি প্রশ্ন থাকবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, চিত্র, গণিত, মনস্তাত্ত্বিক বিষয় ও কমনসেন্স বিষয়ক প্রশ্ন হয়ে থাকে এই অংশে। অর্থাৎ এটাও প্রিলির মধ্যে আরেকটা ছোটখাটো প্রিলি। আপনি যদি অন্যান্য অংশে ভালো করে প্রস্তুতি নেন, তবে মানসিক দক্ষতা অংশেও ভালো করবেন।

প) প্রথমে বিগত প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলো পড়ে নেবেন। এরপর ২৭তম বিসিএস থেকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মানসিক দক্ষতার প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলবেন। বুঝে বুঝে পড়বেন। অনেকেরই জানা আছে, লিখিত পরীক্ষায় ৫০টি এমসিকিউ টাইপ প্রশ্ন হয়।

ফ) এতে মানসিক দক্ষতা সম্পর্কে আপনার একটা পূর্ণাঙ্গ ধারণা হয়ে যাবে। এগুলো পেতে একটা গাইড সংগ্রহ করে নেবেন। ওরাকল হতে পারে।

ব) কিছু বিষয় একটু ভালো করে পড়বেন। যেমন বাংলা বানান, ইংরেজি বানান, অ্যানালজি, সিরিজ, দূরত্ব নির্ণয়বিষয়ক সমস্যা, চিত্রভিত্তিক সমস্যা বিন্যাস ও সমাবেশ, শূন্যস্থান পূরণ, বছর নির্ণয় ইত্যাদি।

ভ) অনুশীলন করার সময় প্রশ্নের প্যাঁচটা বোঝার চেষ্টা করুন। তাড়াহুড়ো করে না বুঝে অধ্যায় বা বই শেষ করতে যাবেন না। এতে তেমন লাভ হবে না।

৪১ তম বিসিএসে প্রস্তুতির এখনই সময়

৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দরজায় কড়া নাড়ছে। এই সময় নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। কেমন হবে এই বিসিএসের প্রস্তুতি, তা জানাচ্ছেন ৩৭তম বিসিএসে প্রশাসনে প্রথম স্থান অধিকারী তকী ফয়সাল। এবারের বিষয় বাংলা ও ইংরেজি।

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথপরিক্রমায় প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। ২ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠেয় ২০০ নম্বরের এই এমসিকিউ টাইপ পরীক্ষার সিলেবাসে ১০টি বিষয় ও সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ মান বণ্টনসহ উল্লেখ আছে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় শুধু পাস নম্বর তোলাই মূল লক্ষ্য; এতে সবকিছু পারার ও উত্তর করার চেষ্টা করা নিতান্তই অমূলক। তাই বিক্ষিপ্তভাবে পড়াশোনা না করে সিলেবাস অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির শুরুতেই সিলেবাসের বিষয়াবলি অনুযায়ী বিগত বিসিএস পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিজের দক্ষতা ও দুর্বলতার দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে। কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে সেটাতে বিশেষ জোর দিতে হবে। কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়েই দক্ষতা অর্জন সম্ভব। কোনো পরিস্থিতিতেই হতাশ হলে চলবে না; বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবেই।

বাংলা
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথমেই আসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এ অংশের পূর্ণমান ৩৫। এর মধ্যে সাহিত্যে ২০ এবং ভাষা তথা ব্যাকরণ অংশে ১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সাহিত্য অংশের ২০ নম্বরের মধ্যে ০৫ নম্বর প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং ১৫ নম্বর আধুনিক যুগের সাহিত্য থেকে আসে। এ অংশের প্রস্তুতির জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসবিষয়ক কোনো বই পড়তে পারলে ভালো হয়। তবে সময়স্বল্পতা ও মনে রাখার ক্ষেত্রে তা অনেকের জন্যই দুষ্কর। তাই বাজারের যেকোনো গাইড বই থেকে এ অংশ ভালোভাবে মুখস্থ করতে হবে। আর কিছুদিন পর পর রিভিশন করতে হবে; কারণ এ অংশ পড়ার চেয়ে ভোলা বেশি সহজ। সঙ্গে নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্য কর্মগুলোর নাম পড়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যেসব কবি-সাহিত্যিকদের ওপর সচরাচর বেশি প্রশ্ন আসে (যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, বেগম রোকেয়া, দীনবন্ধু মিত্র, জসীমউদদীন, কায়কোবাদ প্রমুখ), তাঁদের সাহিত্যকর্মের ব্যাপারে বিশেষ জোর দিতে হবে। সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রযোজ্য। ব্যাকরণ অংশের সিলেবাসে প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস অন্তর্ভুক্ত আছে। এগুলোর জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই থেকে বিষয় ধরে ভালোভাবে পড়তে হবে। প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, বাক্য পরিবর্তন, শব্দ গঠন—এ টপিকস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসেও অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলো উচ্চ মাধ্যমিকের কোনো ব্যাকরণ বই থেকে পড়তে পারলে আরও ভালো। তবে অন্ততপক্ষে নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইটা অবশ্যই পড়া উচিত ; সঙ্গে কোনো গাইড থেকে বিগত বছরের বিভিন্ন প্রশ্ন (বিশেষত প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার) ভালোভাবে সমাধান করতে হবে।

ইংরেজি
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ৩৫ নম্বরের মধ্যে সাহিত্যে ১৫ এবং ভাষা তথা গ্রামার অংশে ২০ নম্বর বণ্টিত আছে। সাহিত্যের জন্য কোনো একটা গাইড বই থেকে বিগত সালের প্রশ্নের আলোকে দাগিয়ে পড়তে হবে। যেসব বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন হয়, যেমন- শেকসপিয়ার, রোমান্টিক যুগের কবি, বিভিন্ন যুগের বিস্তারকাল ও সাহিত্যগত বৈশিষ্ট্য, ইংরেজি সাহিত্যের ছন্দ ও অলংকার, বিভিন্ন বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের পঙ্ক্তি ও উদ্ধৃতি প্রভৃতি খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে এবং বারবার রিভাইজ করতে হবে। গ্রামারের জন্য যেকোনো প্রচলিত গ্রামার বই অনুসরণ করা যেতে পারে। পার্টস অব স্পিচ, ক্লসেস, ইডিয়মস অ্যান্ড ফ্রেজ, সেন্টেন্স অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন্স—সিলেবাসের এ অংশগুলো রুলস বুঝে বুঝে প্র্যাকটিস করতে হবে। কারেকশন ও ভোকাবুলারির জন্য কোনো গাইড বই; সঙ্গে পত্রিকা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিবন্ধ পড়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নিয়মিত অজানা ওয়ার্ড নোট করা যেতে পারে। ইংরেজি অংশে ভালো করতে বেশি বেশি অনুশীলনের বিকল্প নেই। কোনো একটি গাইড বই থেকে সিলেবাস অনুযায়ী বিগত বিসিএসের প্রশ্ন, পিএসসির নন-ক্যাডারের প্রশ্ন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি চাকরির প্রশ্ন অবশ্যই বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। আর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি অংশের উত্তর করতে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। কেননা এগুলোতে কনফিউশনে পড়ে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়, আর নেগেটিভ মার্কস গুনতে হয়। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকুন আর নির্ভার হয়ে পরীক্ষার হলে উত্তর করুন। বিশ্বাস রাখুন; ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

নতুনরা কীভাবে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করবেন বিসিএস প্রিপারেশন?

যারা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন কিংবা দ্বিতীয় বর্ষে অথবা তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষে পড়েন কিন্তু জানেন না কিভাবে বিসিএস প্রিপারেশন শুরু করবেন। অথবা অনেকই এমন আছেন যে, অনার্স মাস্টার্স শেষ, বিসিএস ক্যাডার হওয়া স্বপ্ন; কিন্তু কিভাবে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করবেন না জানার কারণে। এমনও হয়েছে যে, অনেকের কাছে এই বিষয়ে জানার জন্য কিংবা গাইডলাইন পাওয়ার জন্য গিয়েছেন কিন্তু পাননি অথবা পেলেও তা মন:পূত হয়নি।

প্রথমে আপনি নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কোন বিষয়ে দুর্বল। আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন যে বিষয়টা/বিষয়গুলো মনে হয় সেই বিষয় দিয়ে শুরু করুন।

বাংলাদেশের অধিকাংশ চাকরি প্রত্যাশী English এবং Math এ দুর্বল । আবার এর পরের স্থানে আছে বাংলা কিংবা বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো।
আপনি যদি গণিতে দুর্বল হন আগে গণিতের একটা চার্ট কিনে বেসিক সূত্রগুলো মুখস্থ করে ফেলুন প্রতিদিন ২/৩ টা করে। দৈনিক ২-৩ টার বেশি সূত্র পড়বেন না। কারণ একসাথে বেশি সূত্র পড়লে মনে থাকবে না ভালো করে। যদি এইভাবে পড়েন নিয়মিত, দেখবেন আপনার সব সূত্র মুখস্থ হয়ে গেছে ১-২ মাসের মধ্যে। এর পাশাপাশি দৈনিক রুটিনে ক্লাস ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত টেক্সবুকের অংকগুলো করে ফেলুন। যদি কারো হাতে এতো সময় না থাকে আমি বলবো আপনি অন্তত ৮ম শ্রেণি ও ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই ২টি শেষ করেন। আর যদি এই ২টি বইও শেষ করার মতো হাতে যথেষ্ট সময় না থাকে তাহলে আপনাকে ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইটি অবশ্যই শেষ করতে হবে। গণিতে ভালো করার জন্য প্র‍্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই। তারপর বিসিএস প্রিলিতে আসা বিগত সালের গণিতে প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন। এরপর George’s MP3 Math বইটি বুঝে বুঝে করে ফেলুন, দেখবেন আপনার গণিতে ভয় কেটে গেছে। (প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন কিংবা গ্রুপ স্টাডি করুন) আবারো বলছি গণিতে ভালো করতে নিয়মিত ও বেশি বেশি প্র‍্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই। এই ভাবে পড়লে বিসিএস রিটেনের ম্যাথের জন্যও আপনাকে বেশি ভাবতে হবে না।

এবার আসা যাক স্টুডেন্টদের জাতীয় সমস্যা ইংলিশের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। ইংলিশের জন্য আমি আগে বলবো আপনি একটা বেসিক ইংলিশ বই শেষ করুন (যেমন Advance Learners’ Functional English by Chowdhur & Hossain , Applied English Grammar and Composition – by P C Das বইগুলো শেষ করুন বিসিএস প্রিলি সিলেবাস অনুযায়ী। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে ২টি গণিত সূত্র মুখস্থ করার সাথে সাথে Saifur’s Vocabulary থেকে ৫-৬ টি শব্দ মুখস্থ করুন। Vocabulary পড়ার সময় একটু শব্দ করে পড়বেন এবং খাতায় বার বার লিখবেন তাহলে মনে থাকবে বেশি দিন।
অনেকে আবার বলতে পারেন, Vocabulary পড়ি কিন্তু মনে থাকে না, কি করব?

তাদের বলবো, আপনি যখন প্রথমবার Word Meaning পড়েন তখন মনে করবেন প্রথম কিছু মনে থাকবে না, তারপর পড়ুন কিছু মনে থাকবে, আবার পড়ুন ক্রমান্বয়ে মনে থাকার পরিমাণ বাড়বে। Vocabulary বইয়ের মধ্যকার শুধু বড় বড় শব্দগুলো পড়বেন বাংলা অর্থসহ, তারপর সাথে Synonym পড়বেন, তৃতীয়বার মূল শব্দের সাথে Antonym পড়বেন। চতুর্থবার মুল শব্দের সাথে Synonym এবং Antonym মিলেয়ে পড়বেন। এইভাবে পড়লে Effective হবে।

এরপর বেসিক পড়া শেষ হলে “English For Competitive” বইটি কিনে প্র‍্যাক্টিস করা শুরু করে দিন।
মনে রাখবেন আগে বেসিক English Grammar শেষ করতে হবে তারপর প্র‍্যাক্টিস বুক কিনবেন এবং পড়বেন। আগে বেসিক না জেনে পড়লে ভালো করতে পারবেন না ইংলিশে!
তাছাড়া, আপনার হাতে যদি সময় থাকে দৈনিক Daily Star পেপারটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলুন। Daily English Newspaper পড়লে এটা বিসিএস রিটেনেও ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং ও ট্রান্সলেশনে কাজে দিবে।

এরপর আসি বিজ্ঞানের কথায়। যারা সাধারণ স্টুডেন্ট, অর্থাৎ SSC /HSC বিজ্ঞান বিভাগে পড়েননি, তাদের মনে বিসিএস প্রিলির বিজ্ঞান নিয়ে কিছুটা ভয় কাজ করে। আমি বলবো এই নিয়ে আতংকিত বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমিও SSC ও HSC দুটিতেই মানবিক বিভাগে ছিলাম। বিজ্ঞান নিয়ে আমার সমস্যা হয়নি, আপনারও হবে ইনশাল্লাহ। আপনি বিগত সালের বিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়লে ১৫ এর মাঝে ১০-১২ এমনিতে পাবেন। আর যদি আনকমন প্রশ্ন আসে সে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, কারণ আনকমন প্রশ্ন আসলে আপনি না পড়লে যারা সাইন্স গ্রুপের স্টুডেন্ট তারাও এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। যেমনটা আমরা ৩৮তম বিসিএস প্রিলির বেলায় দেখেছি, এই ক্ষেত্রে George’s MP3 বিজ্ঞান বইটি আপনাকে সাপোর্ট দিবে।

কম্পিউটার ও ICT তে ভালো করতে Easy Computer বইটি + একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান লিখিত বইটি পড়ে ফেললে কম্পিউটার ও ICT নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
আর অন্যান্য বিষয়ে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই ভালো করা যায়।

বি.দ্র: আপনি যেসব বিষয়ে দুর্বল তা দিয়ে শুরু করার পর আপনি যখন দেখবেন যে-আপনি আর কোনো বিষয়ে দুর্বল নয়, তখন আপনার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আর মনে রাখবেন বিসিএস হলো মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা, যার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস যত বেশি সে তত দ্রুতই সফল হবে ইনশাআল্লাহ!

এগুলো শেষ কারর পর, এরপর বিসিএসের বিগত সালে আসা প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ বুঝে বুঝে ভালোভাবে সমাধান করুন। তারপর আপনি বিষয়ভিত্তিক বিষয়গুলোর উপর পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতি নিন।
এই ক্ষেত্রে আপনার ২ ধরনের লাভ হবে:
১. বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পাবেন
২. বিসিএসে বিগত সাল থেকে হুবহু অনেক প্রশ্ন আসে, অতএব আপনি অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন(বিশেষ করে বিজ্ঞান ও ICT অংশে)।
তবে আপনি যখন প্রশ্ন সমাধান করবে বিশেষভাবে জোর দিবেন ৩৫তম-৩৮তম বিসিএস প্রশ্নের উপর, কেননা এগুলো নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন আর এখন এই নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্ন হয়।
বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের জন্য আপনি প্রফেসর’স প্রশ্নব্যাংক/ওরাকল প্রিলির প্রশ্নব্যাংক ফলো করতে পারেন। আমার লিখিত “BCS Preliminary Analysis” বইয়ে আপনারা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নগুলোর অর্থাৎ ৩৫তম-৩৮তম বিসিএস প্রিলির প্রশ্নের সমাধান পাবেন ব্যাখ্যাসহ সুন্দরভাবে ; এর সাথে সাজেশন ও টেকনিকসহ তো সকল সাবজেক্টের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থাকছেই।
আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মাসে আপডেট থাকার জন্য “মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স” পড়তে হবে।

আর যাদের হাতে সময় কম বা এত বেশি বই পড়তে পারেন না তারা একটু ধৈর্য ধারণ করে “BCS Preliminary Analysis” বইটির জন্য অপেক্ষা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইল।

শুধু “BCS Preliminary Analysis” বইটি পড়লেই ইনশাল্লাহ বিসিএস প্রিলি পাশ করতে পারবেন। কিন্তু বেশি বেশি জানার জন্য বেশি বেশি পড়ার বিকল্প নেই।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন এবং জীবনে পরিশ্রম করলে যেন সফল হোন সেই শুভ কামনা রইল। আর হতাশ হওয়ার কিছু নেই; কখনো হতাশ হবেন না। সব সময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ সব সময় পরিশ্রমীদের সাথেই আছেন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে একনিষ্ঠ ও সৎ উদ্দেশ্যে পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।

তাই বলছি পরিশ্রম করুন আল্লাহ কখনো খালি হাতে ফেরত দিবেন না, কিছু না কিছু দিবেনই।

৪১তম বিসিএস প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

অনেক প্রশ্ন করেছেন, ‌‘৪১তম বিসিএসে আমি কি আবেদন করতে পারবো? আমার সাবজেক্ট…।’ এখানে বলে রাখি, আপনি ৪১তম বিসিএসে আবেদন করতে পারেন কিনা সেটা পিএসসি সার্কুলার দেয়ার আগে বলা কঠিন। ৪১তম যেহেতু শিক্ষা ক্যাডার নিয়োগের জন্য স্পেশাল বিসিএস হবে (এখন পর্যন্ত পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমে তাই-ই জেনেছি), তাহলে পিএসসি যেসব বিষয়ের শূন্য পদের উল্লেখ করবে কেবল সেই সব সাবজেক্ট এর প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন।

৪১তম স্পেশাল BCS প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন সে বিষয়ে A-Z জানিয়েছেন— গাজী মিজানুর রহমান। তিনি ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার এবং সাবেক সহকারী শিক্ষক, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৩৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার)।

আপনি একটু বুদ্ধি খাটালো অনেক কিছু জানতে পারবেন। আপনি দেখুন, আপনি যে বিষয়ে অনার্স/মাস্টার্স করে সেই বিষয়টি সরকারি কলেজে আছে কিনা কিংবা অতীতে আপনার সাবজেক্টে কেউ শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে কিনা। যদি সরকারি কলেজে আপনার সাবজেক্ট থাকে বা অতীতে আপনার সাবজেক্টে নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে আপনি আশা করতে পারেন যে, আপনি ৪১তম বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন।

এই তো গেলে আবেদনের ঝামেলা। এবার আসুন কীভাবে ৪১তম বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন?
– বিসিএসে যেহেতু ২ ধরনের পরীক্ষার্থী থাকে, তাহলে দুই ধরনের পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতি দুই ধরনের হওয়া উচিত। যেমন, সব রোগের জন্য কেবল নাপা খেলে কাজ হবে না।
বিসিএসে এই ধরনের পরীক্ষার্থীর একটি হলো- একেবারে নতুন (যারা প্রথমবারের মতো ৪১তম বিসিএস দিবেন)।
*আরেক ধরনের পরীক্ষার্থী আছে, যারা এর আগেও বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছে। মানে অভিজ্ঞ বা কিছুটা অভিজ্ঞ।

এখন প্রথমে আসি যারা একেবারে নতুন, মানে ৪১তম বিসিএস হবে প্রথম বিসিএস, তারা কিভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন-

১। প্রথমে আপনি বিসিএস প্রিলির বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখুন। বিসিএসে কী ধরনের প্রশ্ন হয় ধারণা পেয়ে যাবেন এবং বিগত সালের প্রশ্ন থেকে অনেক কমনও পাবেন পরীক্ষায় প্রশ্ন রিপিট হলে।
এরপর আপনি “BCS Preliminary Analysis” বইটির A-Z ভালোভাবে বুঝে বুঝে শেষ করুন অন্তত দুইবার। এই বইটি শেষ করলে বিসিএস প্রিলি সম্পর্কে আপনি একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যাবে, বিসিএস প্রিলি নিয়ে আপনার যে ভয়ডর আছে তা কেটে যাবে এবং নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
তারপর আপনি বাজার থেকে বিসিএসের ভালো মানের একটি/দুটি মডেল টেস্ট “BCS Real Model Test” বইটি ও সাথে অন্য যে কোনো ভালো মানের আরেকটি মডেল টেস্ট বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন) নিয়ে সময় ধরে পরীক্ষা দিন। তারপর দেখুন কোন বিষয়ে কত পান। যে বিষয়ে কম পাবেন, সেই বিষয়টি ভালোভাবে শেষ করুন, সেই বিষয়টিতে জোর দিন।

এবং বিসিএস প্রিলির যে কোনো ভালো সিরিজের বইগুলো পড়ুন এবং “BCS Preliminary Analysis” বইটি ভালোভাবে শেষ করে ফেলুন। (কারণ “BCS Preliminary Analysis” বইটি কেবল BCS এর Important টপিকগুলো দিয়ে সাজানো। পরীক্ষায় তাই অনেক বেশি কমন পাবেন। যেমন, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় BCS Preliminary Analysis বইয়ে থেকে Directly এবং Indirectly ১১২টি প্রশ্ন কমন এসেছে এতো কঠিন প্রশ্নের মাঝেও)

এছাড়া যে কাজটি করবেন, ক্লাস ৪-১০ এর ম্যাথগুলো শেষ করুন এবং ৯-১০ শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ এবং বাংলা ব্যাকরণ বইটি সাথে রাখবেন।

দৈনিক একটি জাতীয় পত্রিকা পড়ুন (প্রথম আলো বেস্ট মনে হয় আমার কাছে)। যাদের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস নেই বা পড়ার সুযোগ নেই। তারা মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ুন।

আর পরীক্ষার আগ মুহূর্তে সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের জন্য একটি বই পড়তে পারেন।

*এবার আসি অভিজ্ঞদের প্রস্তুতির বিষয়ে। আপনারা যেহেতু এই পর্যন্ত এক বা একের অধিক বার পরীক্ষার দিয়েছেন, আপনারদের বলার তেমন বেশি কিছু নেই। যেহেতু আপনার অনেক কিছু জানেন বলে ধরে নিলাম। তারপরও কিছু কথা না বলেই নয়।
যেহেতু ৪১তম বিসিএস স্পেশাল হবে এবং এখন পর্যন্ত যা শোনা যাচ্ছে MCQ + Viva হবে। তাহলে MCQ তে ভালো নাম্বার তুলতে হবে। কেবল পাশ করলে হবে না। যেহেতু MCQ+ Viva হলে MCQ এর নান্বার যোগ হয় (তবে সাধারণ বিসিএসে, যেখানে MCQ+Written+ Viva হয়, সেখানে MCQ নাম্বার যোগ হয় না, কেবল পাশ করলেই হয়)। আপনাকে MCQ বেশি নাম্বার পেতে হবে। সেজন্য আমি বলবো আপনাদের যেহেতু আগের কিছু প্রস্তুতি আছেই আপনারা বেশি বেশি MCQ পড়ুন। মানের বাজার থেকে ভালো মানের ২-৩টি মডেল টেস্ট বই কিনে MCQ গুলো পড়ে ফেলুন। কারণ ভালো মানের মডেল টেস্টগুলোতে কেবল Important প্রশ্নগুলো থাকে, যেখান থেকে পরীক্ষায় অনেক কমন পাওয়া যায়। সেজন্য আপনি ‌‘BCS Real Model Test”, ‘প্রফেসর’স মডেল টেস্ট’, ‘অ্যাসিওরেন্স মডেল টেস্ট’ বা ভালো মানের অন্য মডেল টেস্ট পড়তে পারেন।

তারপর দেখুন কোন বিষয়ে কত পান। যে বিষয়ে কম পাবেন, সেই বিষয়টি ভালোভাবে শেষ করুন, সেই বিষয়টিতে জোর দিন।
এবং বিসিএস প্রিলির যে কোনো ভালো সিরিজের বইগুলো পড়ুন এবং “BCS Preliminary Analysis” বইটি ভালোভাবে শেষ করে ফেলুন। (কারণ “BCS Preliminary Analysis” বইটি কেবল BCS এর Important টপিকগুলো দিয়ে সাজানো। পরীক্ষায় তাই অনেক বেশি কমন পাবেন। যেমন, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় BCS Preliminary Analysis বইয়ে থেকে Directly এবং Indirectly ১১২টি প্রশ্ন কমন এসেছে এতো কঠিন প্রশ্নের মাঝেও)

এছাড়া যে কাজটি করবেন, ক্লাস ৪-১০ এর ম্যাথগুলো শেষ করুন এবং ৯-১০ শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ এবং বাংলা ব্যাকরণ বইটি সাথে রাখবেন।

দৈনিক একটি জাতীয় পত্রিকা পড়ুন (প্রথম আলো বেস্ট মনে হয় আমার কাছে)। যাদের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস নেই বা পড়ার সুযোগ নেই। তারা মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়ুন।

আর পরীক্ষার আগ মুহূর্তে সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের জন্য একটি বই পড়তে পারেন।

এখান বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিযোগী ও প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই আগের মতো গতানুগতিক বই পড়ে কিংবা গতানুগতিক টেকনিক অবলম্বন করে খুব একটা ভালো সাফল্য আশা করা যায় না। প্রতিযোগী ও প্রতিযোগিতা দুটির যেহেতু বেশি, তাই সাফল্য পেতে হলে পড়াশোনা করতে হবে ব্যতিক্রমভাবে ও কার্যকর টেকনিক অবলম্বন করে।

*ইনশাল্লাহ, এইভাবে পড়লে ভালো কিছু হবে।

মনে রাখবেন, মাঝখানের এই সময়টুকু ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনার ও আপনার পরিবারের ভাগ্যে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। আপনি হয়ে যেতে পারেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন ক্লাস ওয়ান ক্যাডার অফিসার। তাই সময় নষ্ট না করে বেশি বেশি পড়ুন এবং Important বিষয়গুলোর বেশি জোর দিন; যেন পরীক্ষার হলে গেলে Confused না হন।

আরেকটি কথা মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে সুযোগ করে দেয় না, নিজের সুযোগ নিজেকে তৈরি করে নিতে হয় যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে। আপনি ১ ঘণ্টা বেশি পড়া মানে ১ ঘণ্টার পথ এগিয়ে গেলেন সাফল্যের পথে।

লিফট দুর্ঘটনায় যা যা করণীয়

পৃথিবীতে কেউই দুর্ঘটনার হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। যে কারণে আমাদের নিজেদেরই আগে খুঁজে বের করতে হবে, দুর্ঘটনায় পতিত হলে প্রাণ বাঁচাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে জীবন বেঁচেও যেতে পারে কিংবা কম আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অনেক সময় লিফট দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর দুর্ঘটনার ঘটতে পারে। যদিও লিফট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা খুব বেশি ঘটে না। তবে একেবারেই যে ঘটবে না তা কিন্তু নয়।

তাই জেনে নিন লিফট দুর্ঘটনায় করণীয়-

লাফ দেবেন না

প্রথমত, আপনি যখন নিচে পড়ে যেতে থাকবেন, তখন লাফ দেওয়ার চেষ্টা করাটা খুবই কঠিন। দ্বিতীয়ত, লাফা-লাফি করলে লিফট আরো বেশিগতিতে আছড়ে পড়বে। তৃতীয়ত, আপনার শরীরের কোন অংশ আগে পড়বে হবে তা এর মাধ্যমে আগেভাগে নির্ধারণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বরং লাফের কারণে আপনি মাথায় আঘাত পেতে পারেন।

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন না

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুব ভালো বুদ্ধি নয়। কারণ পতনের সময় শরীরের ওজনের ১০ গুণ ওজন এসে ভর করে পায়ে। যা খুবই গুরুতর জখম হওয়ার কারণ হতে পারে।

সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল

মাস্যাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টারের গবেষক ইলিয়ট এইচ ফ্রাঙ্কের মতে, লিফট যখন পড়ে যেতে থাকবে তখন যত দ্রুত সম্ভব চিৎ হয়ে দুই হাত ও পা ছড়িয়ে লিফটের মেঝেতে শুয়ে পড়া একমাত্র নিরাপদ কৌশল। এতে আপনার শরীরের অপেক্ষাকৃত মজবুত অংশগুলোতে শক্তি ছড়িয়ে পড়বে। নিচে পড়ার আঘাত শরীরের সব অংশে সমানভাবে ছড়িয়ে যাবে বলে ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশে কম আঘাত ঘটাতে পারে।

লিফটে বেশি মানুষ থাকলে করণীয়

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো যেটা করতে পারেন তা হচ্ছে, লিফটের মেঝেতে বসে পড়া। আপনি দাঁড়িয়ে থাকলে অস্থিতে যে পরিমাণ চাপ পড়তো তার তুলনায় অস্থিতে কম চাপ পড়বে এ পজিশনে। যদি বসে পড়ার মতো জায়গা না থাকে, তাহলে অন্তত চেষ্টা করুন হাঁটু বাঁকা করে রাখতে, এটিও পায়ের বল কমাতে কিছুটা সাহায্য করবে।

চাকরিজীবীদের বিসিএস প্রস্তুতি

যারা ইতোমধ্যে কোনো চাকরি করছেন। আবার চাকরির পাশাপাশি বিসিএস অথবা অন্য কোনো চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা কীভাবে চাকরির পাশাপাশি সময় বের করে বিসিএস বা অন্য কোনো চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারেন। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ৩৬তম বিসিএস পরিসংখ্যান ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। জানাচ্ছেন-

আপনি যেহেতু চাকরি পেয়েছেন, ধরেই নিচ্ছি চাকরির পড়াশোনা সম্পর্কে আপনার যেমন ভালো ধারণা আছে তেমন দখলও আছে। এই বিসিএস’র জন্য পূর্বের শিক্ষাটাই আপনার ভিত্তি। এখন সেটার রিভিশন এবং নতুন জ্ঞান যুক্ত করাটাই হবে কাজ। তবে সবগুলো বিষয় শুরু থেকেই পড়তে হবে।
ভেবে-চিন্তে এবং পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে এবং আপনি কী কী ভালো পারেন- এই দু’টি দিক আলাদা করুন। প্রয়োজনে একটি রাফ লিস্ট করুন। নিশ্চিত হয়ে নিন যে প্রয়োজনীয় বইগুলো আপনার সংগ্রহে আছে। নতুন করে অন্তত ২টি মডেল টেস্ট এবং একটি ডাইজেস্ট বই সংগ্রহ করুন।

দক্ষতা অর্জনকল্পে দুর্বলতার জায়গাগুলোতে একটা টোটাল পড়াশোনা করতে হবে। ওই সকল টপিকের খুঁটিনাটি আদ্যোপান্ত পড়ে নিবেন। আর যা কিছু আগে থেকেই ভালো পারেন, তা আপনার সময় বাঁচিয়ে দিবে। এগুলো এবং নতুন যা কিছু শিখবেন, তা রিভিশনে রাখবেন।

আপনার সময়টাকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারেন। একটা ভাগ রিভিশনের জন্য, অন্য ভাগটি নতুন পড়াশোনা চর্চার জন্য।

আসুন দেখে নেই, একজন চাকরিজীবীর পক্ষে কতটা সময় বের করা সম্ভব। অফিস টাইম আট ঘণ্টা, আগে পিছে আরও দুই ঘণ্টা খরচ হলে- এখানে ১০ ঘন্টা শেষ। ছয় ঘণ্টা ঘুম এবং অন্যান্য প্রয়োজনে এক ঘণ্টা ব্যয় করলে- এখানে ৭ ঘণ্টা শেষ।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবশিষ্ট থাকে ৭ ঘণ্টা। এই সময়টাকে দুইটা ভাগে পাওয়া যাবে। অফিসের পূর্বে ৩ ঘণ্টা এবং অফিসের পরে ৪ ঘণ্টা। তবে অনেকের জন্য ৪ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। তিনি তো আরও বেশি সময় পাবেন।

আবার কেউ কেউ হয়ত অফিসের পূর্বে সময় কম পান, তিনি নিজের সুবিধামত ৭/৮ ঘণ্টা সময় বের করে নিতে পারেন। এবার রিভিশনের জন্য তিন ঘণ্টা ব্যয় করুন, বাকী সময়টুকুতে নিজের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করুন। নতুন জ্ঞানে সমৃদ্ধ হোন।

শুক্র-শনি ডে-অফ, আপনার জন্য আশীর্বাদ। এই দুই দিন কমপক্ষে ১৬ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করার চেষ্টা করুন। মডেল টেস্ট বই থেকে তথ্যগুলো শিখুন। নিজে নিজে বাসায় পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন নেই। পরীক্ষা দিতে হলে কোন কোচিং সেন্টারে গিয়ে দিতে পারেন।

ব্যস্ততার ফাঁকে পড়াশোনার জন্য হাতের মোবাইলটা কাজে লাগাতে পারেন। পড়াশোনা বিষয়ক বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং গুগল থেকে পড়াশোনা করতে পারেন। কোন তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে অবশ্যই ক্রস চেক করে নিবেন। অনলাইন থেকে পড়া পেজগুলো অফলাইনের জন্য সেভ করে রাখুন। পরবর্তীতে রিভাইস করার জন্য গুছানো থাকা জরুরী। চাইলে নোটও রাখতে পারেন।

বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলোর ছবি নিয়ে অথবা নিজের করা নোট থেকে দুই চারটা পৃষ্ঠা প্রতিদিন কাজের ফাঁকে বা গাড়িতে বসে দেখে নিতে পারেন।

স্থূল সময় খুব বেশি না পেলেও চিকন সময় অনেক পাবেন। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলেই ব্যবধান তৈরী হয়ে যাবে।